সর্বকালের সেরা বাংলা নায়ক উত্তম কুমারের লিপে সেরা ১৫ টি গান

সর্বকালের সেরা বাংলা নায়ক উত্তম কুমারের লিপে সেরা ১৫টি গান উল্লেখ করলাম। আপনার পছন্দেরটা বাদ পড়লে যোগ করে দিয়েন। একটা হিন্দী গান বোনাস হিসাবে আছে। প্রতিটি গানের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিয়েছি। সেরা কোয়ালিটির ভিডিও টা বেছে নিয়েছি। উত্তম প্রেমিকদের এই সংকলনটি ভাল লাগলে আমার শ্রম স্বার্থক হবে।

দীপংকর দীপন

৩০.৮.২০২০

১. আমি চেয়ে চেয়ে থাকি সারাদিন

১৯৬৩ সালের ছবি দেয়া নেয়া ছবির গান। শ্যামল মিত্র গেয়েছেন- সুর ও সঙ্গীত ও ছিল তার। গানের কথা গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের। ছবিটির পরিচালক ছিলেন সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তম কুমার ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তনুজা, পাহাড়ী স্যান্যাল, কমল মিত্র, তরুন কুমার প্রমুখ।

আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন
আজ ঐ চোখে সাগরের নীল
আমি তাই কি গান গাই কি
বুঝি মনে মনে হয়ে গেল মিল
কবরীতে ঐ ঝরঝর কনক চাঁপা
না বলা কথায় থর থর অধর কাঁপা
তাই কি আকাশ হল আজ
আলোয় আলোয় ঝিলমিল
এই যেন নয়গো প্রথম
তোমায় যে কত দেখেছি
স্বপ্নেরও তুলি দিয়ে তাই
তোমার সে ছবি এঁকেছি
মৌমাছি আজ গুনগুন দোলায় পাখা
যেন এ হৃদয় রামধনু খুশিতে মাখা
তাই কি গানের সুরে আজ
ভরে আমার রিনিকিন

এই গানটির কাভার ভার্সনটিও দিলাম । প্রীতম দাস ও সুমন ঘোষ এর করা।

২. এ কি হলো

রাজকুমারী ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের জনপ্রিয় তম গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন আরেক লিজেন্ড কিশোর কুমার। ১৯৬৭ সালের এই ছবিটির সুরকার ছিলেন রাহুল দেব বর্মণ। কথা গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের। সলিল সেন এর পরিচালনায় এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন তনুজা, পাহাড়ী স্যান্যাল, তরুন কুমার, ছবি বিশ্বাস।

এ কি হল, কেন হল, কবে হল, জানি না
শুরু হল, শেষ হল, কী যে হল, জানি না তো
এ কি হল,
কেউ বোঝে কি না বোঝে হায়, আমি শুধু বুঝি
এই আঁধারে ভুল করে হায়,
আলো মিছে খুঁজি
মেঘ মরুতে যায় কি দেখা,
দিন যায় একা একা
কেউ ভাবে কি না ভাবে হায়, আমি শুধু ভাবি
যে প্রেম দিতে জানে তার নেই কোন দাবিহায়,
মনে পড়ে কেন তারে, মনে পড়ে বারে বারে
এ কি হল, কেন হল, কবে হল, জানি না
শুরু হল, শেষ হল, কী যে হল, জানি না তো

কাভারটাও দিলাম। ভাল কাভার। বাংলাদেশের শিল্পী মাহাদীর কন্ঠে। মিউজিক রিঅ্যারেঞ্জমেন্টঃ পার্থ বডুয়া।

৩. আমি যামিনী তুমি শশী হে

১৯৬৭ সালের ছবি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী ছবির গান। মান্না দে গেয়েছেন- সুর ও সঙ্গীত ছিল অনিল বাগচীর। গানের কথা গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের। ছবিটির পরিচালক ছিলেন সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তম কুমার ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তনুজা, ললিতা চট্টোপাধ্যায়, অসিত বরণ, হারাধন মূখার্জি প্রমুখ।

আমি যামিনী তুমি শশী হে
ভাতিছ গগন মাঝে।।

মম সরসীতে তব উজল
প্রভা বিম্বিত যেন লাজে।।

তোমায় হেরিগো স্বপনে
শয়নে তাম্বুর রাঙ্গা বয়ানে
মরি অপরূপ রূপ মাধুরী
বসন্ত-সম বিরাজে।।

তুমি যে শিশির বিন্দু
মম কুমুদির বক্ষে
না হেরিলে ওগো তোমারে
তমসা ঘনায় চক্ষে।

তুমি অগণিত তাঁরা গগনে
প্রাণবায়ু মম জীবনে
তব নামে মম প্রেম মুরলী
পরাণের মাঝে বাজে।।

৪. দোলে দোদুল দোলে ঝুলনা

১৯৬৩ সালের ছবি দেয়া নেয়ার আরেকটি গান। যথারীতি কন্ঠ, সুর ও সংগীত পরিচালনা শ্যামল মিত্রর। কথা গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের। সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এর পরিচালনায় এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন তনুজা, পাহাড়ী স্যান্যাল, তরুন কুমার, লিলি চক্রবর্তী প্রমুখ।

গানের কথা

দোলে দোদুল দোলে ঝুলনা
দোলে কৃষ্ণ দোলে ঝুলনা
দোলে রাই দোলে ঝুলনা
দোলে দোদুল নাই তুলনা তুলনা

রাধার অধরে জাগে হাসি
কহিছে ডেকে শ্যামের বাঁশি
এ লগন রাই ভুলনা

সা নি পা নি সা রে
নি সা গা রে মা গা পা
পা নি সা রে গা রে সা নি ধা পা মা গা রে সা

দোলে শিখিপাখা দোলে শুকশারি
ময়ূরী দোলে প্রেম অভিসারী
এ রাতের নাই তুলনা
এ লগন রাই ভুলনা

মাধব কহিছে ওগো রাধা
তুমি আমি একই সুরে বাঁধা
এ বাঁধন কভু খুলনা

৫. নীড় ছোট ক্ষতি নেই

১৯৫৮ সালের নীরেন লাহিড়ী পরিচালিত ইন্দ্রানী ছবির গান। গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও গীতা দত্ত। সুরকার নচিকেতা ঘোষ ও গানের কথা গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। উত্তর কুমার ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুচিত্রা সেন, নমিতা সিনহা, তপতী ঘোষ, তরুন কুমার , তুলসী চক্রবর্তী, ছবি বিশ্বাস পাহাড়ী সান্যাল প্রমুখ।

 

নীড় ছোট ক্ষতি নেই,
আকাশ তো বড়।
হে মন বলাকা মোর
অজানার আহবানে
চঞ্চল পাখা মেলে ধরো।
নীড় ছোট ক্ষতি নেই,
আকাশ তো বড়।

চাঁদেরও আখরে ঐ
আকাশেরও গা’য়
যেন পালক লেখনি তব
প্রেমেরও কবিতা লিখে যায়।
সুদুর পিয়াসী পাখা
কাঁপে থর থর ।
হে মন বলাকা, মোর
অজানার আহবানে
চঞ্চল পাখা মেলে ধরো ।
নীড় ছোট ক্ষতি নেই,
আকাশ তো বড় ।

মেঘ রোদ সব বাধা পার হয়ে যাও।
তব ঐ দুটি ভীরু চোখে
ভূবনেরে নাও ভরে নাও ।
তাই দিয়ে আপনারে সুন্দর কর।
হে মন বলাকা, মোর
অজানার আহবানে
চঞ্চল পাখা মেলে ধরো।
নীড় ছোট ক্ষতি নেই,
আকাশ তো বড়।
হে মন বলাকা, মোর
অজানার আহবানে
চঞ্চল পাখা মেলে ধরো।
নীড় ছোট ক্ষতি নেই,
আকাশ তো বড়।

৬. আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা

সাগরিকা ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের জনপ্রিয় তম গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন শ্যামল মিত্র। ১৯৫৬ সালের এই ছবিটির সুরকার ছিলেন রবিন চট্টোপাধ্যায়। কথা গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের। অগ্রগামী পরিচালিত এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সূচিত্রা সেন, যমুনা সিংহ, নমিতা সিনহা, তপতী ঘোষ প্রমুখ।

আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে
সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ে
ময়ুরপঙ্খী ভীড়িয়ে দিয়ে সেথা
দেখে এলেম তারে
সাত সাগরের পাড়ে

সে এক রূপকথারই দেশ
ফাগুন যেথা হয় না কভু শেষ
তারারই ফুল পাপড়ি ঝরায়
যেথায় পথের ধারে
দেখে এলেম তারে

আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে
সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ে
ময়ুরপঙ্খী ভীড়িয়ে দিয়ে সেথা
দেখে এলেম তারে
সাত সাগরের পাড়ে

সেই রূপকথারই দেশে
যে রঙ আমি কুড়িয়ে পেলেম প্রানে
সুর হয়ে তাই ঝরে আমার গানে
তাই খুশীর সীমা নাই
বাতাসে তার মধুর ছোঁয়া পাই
যানি না আজ হৃদয় কোথায়
হারাই বারে বারে

আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে
সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ে
ময়ুরপঙ্খী ভীড়িয়ে দিয়ে সেথা
দেখে এলেম তারে
সাত সাগরের পাড়ে

৭. আমি যে জলসা ঘরে

১৯৬৭ সালের ছবি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী ছবির গান। মান্না দে গেয়েছেন- সুর ও সঙ্গীত ছিল অনিল বাগচীর। গানের কথা গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের। ছবিটির পরিচালক ছিলেন সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তম কুমার ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তনুজা, ললিতা চট্টোপাধ্যায়, অসিত বরণ, হারাধন মূখার্জি প্রমুখ।

আমি যে জলসাঘরে
বেলোয়াড়ী ঝাড়।
আমি যে জলসাঘরে
বেলোয়াড়ী ঝাড়।
আমি যে জলসাঘরে

নিশি ফুরালে কেহ
চায় না আমায় জানি গো আর।
নিশি ফুরালে কেহ
চায় না আমায় জানি গো আর।
আমি যে জলসাঘরে

আমি যে আতর ওগো
আতরদানী ভরা।
আমি যে আতর ওগো
আতরদানী ভরা।
আমারই কাজ হলো যে
গন্ধে খুশী করা।
কে তারে রাখে মনে
ফুরালে হায় গন্ধ যে তার।
কে তারে রাখে মনে
ফুরালে হায় গন্ধ যে তার।
আমি যে জলসাঘরে

হায় গো কী যে আগুন
জ্বলে বুকের মাঝে।
হায় গো কী যে আগুন
জ্বলে বুকের মাঝে।
বুঝেও তবু বলতে পারি না যে
আলেয়ার পিছে আমি
মিছেই ছুটে যাই বারে বার।
আলেয়ার পিছে আমি
মিছেই ছুটে যাই বারে বার।
আমি যে জলসাঘরে
বেলোয়াড়ী ঝাড়।
আমি যে জলসাঘরে

শ্রেয়ানের কাভারটি ও দিলাম। এটাও খুব ভাল।

৮. তোমার দেহের ভঙ্গিমাটি

হার মানা হার ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন আরেক লিজেন্ড মান্না দে । ১৯৭২ সালের এই ছবিটির সুরকার ছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত। গানের কথাও তার। এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সূচিত্রা সেন ও পাহাড়ী সান্যাল।

তোমার দেহের ভঙ্গিমাটি যেন বাঁকা সাপ
পায়ে পায়ে ছড়িয়ে রাখো যৌবনেরই ছাপ

আমি বেদের মত সম্মোহিত
আশায় হৃদয় আলোকিত
তোমায় ধরার ইচ্ছেটুকু ফুটছে ধাপে ধাপ
পায়ে পায়ে ছড়িয়ে রাখো যৌবনেরই ছাপ

তোমার সন্ধানী চোখ ভরা যে সন্দেহে
জানোনা কি আগুন তোমার সর্বনাশী দেহে

কাছে গেলেই তুমি হও উদ্যত
বোঝোনা প্রেম বিষ বোঝো যত
তোমার হৃদয় ভরা শুধু শীতের নিরুত্তাপ

পায়ে পায়ে ছড়িয়ে রাখো যৌবনেরই ছাপ

৯. সূর্য ডোবার পালা

আবার নচিকেতা ঘোষ ও গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের যাদুকরি জুটির কাজ। ১৯৫৮ সালের ছবি ইন্দ্রানী। সুর করেছেন নচিকেতা ঘোষ, লিখেছেন গৌরি প্রসন্ন মজুমদার। নীরেন লাহিড়ী পরিচালিক এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সুচিত্রা সেন, পাহাড়ী স্যান্যাল, ছবি বিশ্বাস।

সূর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক বেশ তো
গোধূলির রঙে হবে এ ধরণী স্বপ্নের দেশ তো
বেশ তো, বেশ তো
সূর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক বেশ তো
গোধূলির রঙে হবে এ ধরণী স্বপ্নের দেশ তো
বেশ তো, বেশ তো

তারপরে পৃথিবীতে আঁধারের ধূপছায়া নামবেই
মৌমাছি ফিরে গেলে জানি তার গুঞ্জনও থামবেই
তারপরে পৃথিবীতে আঁধারের ধূপছায়া নামবেই
মৌমাছি ফিরে গেলে জানি তার গুঞ্জনও থামবেই
সে আঁধার নামুক না, গুঞ্জন থামুক না
কানে তবু রবে তার রেশ তো

বেশ তো, বেশ তো
সূর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক বেশ তো
গোধূলির রঙে হবে এ ধরণী স্বপ্নের দেশ তো
বেশ তো, বেশ তো

তারপরে সারারাত দু’জনে একা একা ভাববো
হৃদয়ের লিপিকাতে কে যেন লিখেছে এক কাব্য
তারপরে সারারাত দু’জনে একা একা ভাববো
হৃদয়ের লিপিকাতে কে যেন লিখেছে এক কাব্য

জোনাকিরা দ্বীপ জ্বেলে আমাদের সাথে রাত জাগবেই
দুটি প্রানে চুপি চুপি নতুন সে সুর এক লাগবেই
জোনাকিরা জাগুক না, প্রাণে সুর লাগুক না
পাওয়াতে চাওয়ার হবে শেষ তো
বেশ তো, বেশ তো

১০. কাহারবা নয় দাদরা বাজাও

১৯৭৫ সালের সন্ন্যাসী রাজা ছবির গান। গেয়েছেন মান্না দে। আবার নচিকেতা ঘোষ ও গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের যাদুকরি জুটির কাজ। সুর করেছেন নচিকেতা ঘোষ, লিখেছেন গৌরি প্রসন্ন মজুমদার। পীযুষ বসু পরিচালিত এই ছবিতে আরো ছিলেন সুপ্রিয়া চেীধুরী, তরুন কুমার, স্বপন কুমার।

কাহারবা নয় দাদরা বাজাও
উল্টো পাল্টা মারছ চাঁটি
শশীকান্ত তুমিই দেখছি
আসরটাকে করবে মাটি।

রোশনী বাঈয়ের পায়ের পায়েল
কলজেটাকে করুক ঘায়েল
আমার পদ্মপাতায় লাগবে না দাগ
কলঙ্কপাঁক যতই ঘাঁটি (আহ)।

গোলাপ জল দাও ছিটিয়ে,
গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছড়াও

ভুলতে যে চাই বুকের জ্বালা
রক্তে নেশার আগুন ধরাও।

প্রতি রাতের এই যে আসর
এই তো আমার জীবন বাসর
আমার ইচ্ছে করে শূন্যে উঠে
মেঘের উপর দিয়ে হাঁটি (আহ)।

১১. তারে বলে দিও

দুই ভাই ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন আরেক লিজেন্ড হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সুরও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের। লিখেছেন গৌরি প্রসন্ন মজুমদার। সুধীর মুধোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আর বর্তমানের প্রসেনজিতে বাবা বিশ্বজিৎ।

তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
ওই গুন গুন সুরে মন হাসে না
ওই গুন গুন সুরে মন হাসে না
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
গা মা পা
মা গা রে
….
গা মা পা
মা গা রে
সা রে মা
গা রে গা
রে সা রে
সা নি সা
ওই ফুল মালা দিল শুধু জ্বালা
ধুলায় সে যাক ঝরে যাক না
এই ভাঙা বাঁশি ভোলে যদি হাঁসি
ব্যথায় সে থাক ভরে থাক না
জানি ফাগুণ আমায় ভালবাসে না
জানি ফাগুণ আমায় ভালবাসে না
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না
তারে বলে দিও
মন কেন হাসেনা
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
গা মা পা
মা গা রে
সা রে মা
গা রে গা
রে সা রে
সা নি সা
নেই আলো চাঁদে
যেন রাত কাঁদে
এ আঁধার শেষ তবু হয় না
যায় প্রেম সরে
ফাঁকি দেয় মোরে
এই ব্যথা প্রাণে সয় না
হায় স্বপ্নে আঁখি আর ভাসেনা
হায় স্বপ্নে আঁখি আর ভাসেনা
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও
ওই গুন গুন সুরে মন হাসে না
ওই গুন গুন সুরে মন হাসে না
তারে বলে দিও
সে যেন আসে না আমার দ্বারে
তারে বলে দিও

Singer – Sagnik Sen

১২. তোমার ভুবনে মাগো

মরুতীর্থ হিংলাজ ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের বিখ্যাত গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন আরেক লিজেন্ড হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সুরও তার। কথা গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের। বিকাশ রায় পরিচালিত এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সাবিত্রী দেবী, বিকাশ রায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়।

তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ !
একি অভিশাপ, নাই প্রতিকার?
মিথ্যারই জয় আজ, সত্যের নাই তাই অধিকার।
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ !
একি অভিশাপ, নাই প্রতিকার?
মিথ্যারই জয় আজ, সত্যের নাই তাই অধিকার।

কোথায় অযোধ্যা কোথা সেই রাম
কোথায় হারালো গুণধাম,
একি হল একি হল,
পশু আজ মানুষেরই নাম!
সাবিত্রী সীতার দেশে দাও দেখা তুমি এসে
শেষ করে দাও এই অনাচার।
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ !
একি অভিশাপ, নাই প্রতিকার?
মিথ্যারই জয় আজ, সত্যের নাই তাই অধিকার।

তোমার কঠিন হাতে বজ্র কি নাই
হিংসার করো অবসান ।
তোমার এ পৃথিবীতে যারা অসহায়
তুমি মা তাদের করো ত্রাণ।
চরণতীর্থে তব এবার শরণ লবো
দুর্গম এই পথ হব পার।
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ !
একি অভিশাপ, নাই প্রতিকার?
মিথ্যারই জয় আজ, সত্যের নাই তাই অধিকার।

১৩. আমি কোন পথে চলি

ছদ্মবেশি ছবির গান। মান্না দে গেয়েছিলেন। কথা ও সুর সুধীন দাশগুপ্তর।

আমি কোন পথে যে চলি
কোন কথা যে বলি
তোমায় সামনে পেয়েও খুঁজে বেড়াই
মনের চোরাগলি

সেই গলিতেই ঢুকতে গিয়ে
হোচট খেয়ে দেখি
বন্ধু সেজে বিপদ আমার
দাঁড়িয়ে আছে একি
ভয়েরই খাড়াতে হয়ে গেলাম
পাঁঠা বলি

এখন আমি লেঙচে মরি
ওরে বাবা লেঙচে মরি
পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা ধরি
হয়তো মনের দরজা খুলে
তুমিও ছিলে বসে
ভেস্তে গেল সুন্দরীগো
সবই কপাল দোষে
করেছি কি ভুল
নিজেই নিজের দু’কান মলি

১৪, আমার স্বপ্ন তুমি

আনন্দ আশ্রম ছবির এই গানটি উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গান গুলোর মধ্যে একটি। গেয়েছেন লিজেন্ডস কিশোর কুমার ও আশা ভোসলে । কথা গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের। শক্তি সামন্ত পরিচালিত ১৯৭৭ সালের এই ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন শর্মিলা ঠাকুর, রাকেশ রোশান, মৌসুমী চ্যাটার্জী, উৎপল দত্ত প্রমুখ।

আমার স্বপ্ন তুমি,
ওগো চিরদিনের সাথী (x2)

তুমি সূর্য ওঠা ভোর আমার,
আর তারায় ভরা রাতি (x2)
আমার স্বপ্ন তুমি,
ওগো চিরদিনের সাথী।

আমি তোমার ছায়া,
তোমার আকাশ নীলে আমি,
স্নিগ্ধ মেঘের মায়া।
তোমায় কাছে পেয়ে,
পৃথিবী তে কে আর সুখী,
বলো আমার চেয়ে ? (x2)
তোমায় কাছে পেয়ে
হাতের আড়াল দিয়ে বাঁচাও,
ঝড়ের মুখে বাতি।

আমার স্বপ্ন তুমি,
ওগো চিরদিনের সাথী।
তুমি সূর্য ওঠা ভোর আমার,
আর তারায় ভরা রাতি।
আমার স্বপ্ন তুমি,
ওগো চিরদিনের সাথী।

তুমি ছেড়োনা হাত পথে,
যদি আঁধার আসেই নেমে
গ্রহণ যত করো আমায়,
ততোই বাঁধো প্রেমে। (x2)

পাশেই আমার থাকো,
জীবন টাকে শান্তি দিয়ে,
সবুজ করে রাখো
পাশেই আমার থাকো
তোমার পূজার দুঃখ সুখের,
প্রেমের মালা গাঁথি।

আমার স্বপ্ন তুমি,
ওগো চিরদিনের সাথী।
তুমি সূর্য ওঠা ভোর আমার,
আর তারায় ভরা রাতি।

১৫, যদি হই চোরকাটা ঐ শাড়ীর ভাজে

অমানুষ ছবির গান। কণ্ঠ কিশোর কুমার ও আশা ভোসলের। সুরকার শ্যামল মিত্র। উত্তম কুমার ও শর্মিলা ঠাকুরের এই গান বাংলা সিনেমার অন্যতম সেরা রোমান্টিক গান।

যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে
দুষ্টু যে হয় এমন কাজ তো তারই সাজে।
যদি হই কাঁকন তোমার ওই হাতে
রিনিঝিনি বাজবো আমি দিনেরাতে।
চেয়েও আমায় চাও না যে।
যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে
দুষ্টু যে হয় এমন কাজ তো তারই সাজে।
যদি হই কাঁকন তোমার ওই হাতে
রিনিঝিনি বাজবো আমি দিনেরাতে।
চেয়েও আমায় চাও না যে।
যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে।তুমি যে কি করো জ্বালাতন করছো আমায় তুমি বড়ো
চাও কি তুমি ভুল হয়ে যাক সব কাজে।
দুষ্টু যে হয় এমন কাজ তো তারই সাজে।
যদি হই কাঁকন তোমার ওই হাতে
রিনিঝিনি বাজবো আমি দিনেরাতে।
চেয়েও আমায় চাও না যে।
যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে।তোমার ওই দুচোখে যে আমার মরণ দেখেছি
না না না ও চোখেতে চোখ মিলিয়ে স্বপ্ন আমি এঁকেছি।
তোমার ওই দুচোখে যে আমার মরণ দেখেছি
না না না ও চোখেতে চোখ…

একটা বোনাস গান। গানটা হিন্দী। অমানুষ এরই হিন্দী ভার্সন এর। এই গানটার জন্য কিশোর কুমার ও গীতিকার ইন্দিভার দুজনেই ন্যাশনাল অ্যাওয়ারড পেয়েছিলেন। সুর ও সঙ্গীত ছিল শ্যামল মিত্রর।

Dil aisa kisi ne mera toda
Barbadi ki taraf aisa moda
Dil aisa kisi ne mera toda
Barbadi ki taraf aisa moda
Ek bhale manus ko
Amanush bana ke chhoda
Dil aisa kisi ne mera toda
Barbadi ki taraf aisa moda
Ek bhale manus ko
Amanush bana ke chhoda

Sagar kitna mere paas hai
Mere jeevan mein phir bhi pyas hai
Sagar kitna mere paas hai
Mere jeevan mein phir bhi pyas hai
Hai pyas badi, jeevan thoda
Amanush bana ke chhoda
Dil aisa kisi ne mera toda
Barbadi ki taraf aisa moda

তিনটা গানের স্পেশাল মেনশন না করলেই না।

১. এই পথ যদি না শেষ হয়

২. কি আশায় বাঁধি খেলা ঘর

৩. নানা আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাব না।

ধন্যবাদ সবাইকে।

দীপংকর দীপন

৩০ আগস্ট , ২০২০